দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। রোববার সকালে তাঁদেরও নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে তাঁদের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজশিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/